পাবনার সাঁথিয়ার পাগলা ও সুজানগরের মোবারকপুরে গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন করে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। সুজানগরের মোবারকপুরে ৬ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরতায় নতুন একটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এটিই হতে পারে উত্তরবঙ্গের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অনুসন্ধানে সাফল্য এলে এখান থেকে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হারে প্রায় ২০ বছর গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোবারকপুরে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে কূপ খননের কাজ শুরু করেছিল বাপেক্স। তবে ভূগর্ভে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে সে সময় কাজ স্থগিত করতে হয়। এর আগে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামেও গ্যাস কূপ খনন করে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, ‘২০১৪ সালে নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর তীব্র গ্যাসের চাপের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। ওই চাপ মোকাবিলার প্রযুক্তি তখন আমাদের ছিল না। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় খননকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বাপেক্স। মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম জানান, চীনা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কুমিল্লায় খননকাজ চালাচ্ছে। সেখান থেকে রিগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোবারকপুরে স্থানান্তর করা হবে।
গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খননের মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে সরকার ঋণ দেবে ৯০৯ কোটি টাকা এবং বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়ন করবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ৬ একর জমিতে বর্তমানে প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। সুজানগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, গত মার্চ মাসেই জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাপেক্সের উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল নির্মাণের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।
প্রকল্প পরিচালক মেরাজুল আলম জানান, ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি মূল খনন বা ড্রিলিং শুরু হবে। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, সবকিছু ঠিক থাকলে ওই বছরের (২০২৮) শেষ দিকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে স্থানীয় একটি গ্যাসক্ষেত্রের যে স্বপ্ন পাবনাবাসী দেখছেন, তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
